কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় এক কিশোরকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোরশেদপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কিশোরের নাম দিদার হোসাইন (১৬)। সে শিলাইদহ ইউনিয়নের কসবা গ্রামের উত্তরপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে। সে শিলাইদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। আবুল হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলেকে বাটালি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের সবার ফাঁসি চাই। থানায় মামলা করব।’


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি বাবুর (১৮) সঙ্গে দিদার হোসাইনের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল। এ ঘটনার জের ধরে দিদার তার কয়েকজন বন্ধু নিয়ে গতকাল রাত নয়টার দিকে বাবু মিস্ত্রির দোকানে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে আবারও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বাবু ধারালো বাটালি দিয়ে আঘাত করেন এবং কুপিয়ে দিদারকে জখম করেন। স্থানীয় লোকজন দিদারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। দিদারের বুকের বাঁ পাশে জখম ও বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন আছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শরিফ উদ্দিন বলেন, বাবু ও দিদারের মধ্যে বিরোধ ছিল। ঠিক কী কারণে বিরোধ, সেটা স্পষ্ট নয়। গতকাল রাতে দিদার কয়েকজনকে নিয়ে বাবুর দোকানে গিয়েছিল। সেখানে হাতাহাতির একপর্যায়ে সে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।


খোরশেদপুর বাজারের দোকানদার সুজন আহমেদ বলেন, ‘রাতে দেখলাম দিদার কিছু লোকজন নিয়ে এল। আসার একটু পরেই লাফ দিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সকালে শুনলাম দিদার মারা গেছে।’

কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আকিবুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পূর্ববিরোধের জের ধরে প্রায় সমবয়সী প্রতিপক্ষের লোকজন দিদারকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এখনো মামলা হয়নি, কাউকে আটকও করা যায়নি।

এ বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত বাবুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।