২০১৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবে এসেছিলেন বেলজিয়ান কোচ টম সেইন্টফিট। টোগো, জিম্বাবুয়ে, ইথিওপিয়া, মালাউই, নামিবিয়ার মতো একাধিক দেশকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে আসা সে কোচ বাংলাদেশের ফুটবলে অবদান রাখতে পেরেছিলেন সামান্যই। বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ব্যর্থ কোচ হিসেবে লেখা আছে তাঁর নাম।


মালদ্বীপের বিপক্ষে ৫ গোল খাওয়া, ভুটানের বিপক্ষে হেরে যাওয়া—সবকিছুই এসেছে এই সেইন্টফিটের সময়। সেই সেইন্টফিটই আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে গড়ছেন ইতিহাস। তাঁর অধীনে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে খেলতে এসেছিল গাম্বিয়া। শুধু তা–ই নয়, গতকাল নাবি কেইতার গিনিকে হারিয়ে উঠেছে কোয়ার্টার ফাইনালেও! মুসা ব্যারোর একমাত্র গোলে সেইন্টফিটের গাম্বিয়া বিদায় করে দিয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট দল গিনিকে।

এবার টুর্নামেন্টের অন্যতম দুর্বল দল মানা হচ্ছিল গাম্বিয়াকে। তারকা বলতে শুধু ইতালিয়ান সিরি ‘আ’র ক্লাব বোলোনিয়াতে খেলা স্ট্রাইকার মুসা ব্যারো, সাম্পদোরিয়াতে খেলা সেন্টারব্যাক ওমর কোলি, রোমার মিডফিল্ডার এবরিমা দারবো—ব্যস। এই সীমিত শক্তি নিয়েই একের পর এক দৈত্য বধ করে যাচ্ছেন সেইন্টফিট।



তবে কাল গিনি যে গোল করার সুযোগ পায়নি, তা নয়। তবে তাদের কপাল খারাপ বলতেই হবে। ডিফেন্ডার ইবরাহিমা কন্তের এক গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছে, স্ট্রাইকার জোসে কান্তের শট একটুর জন্য আটকে গেছে গাম্বিয়ার গোলকিপার বাবুকার গায়ে। দুই দলের একজন করে লাল কার্ড দেখেছেন, শেষমেশ দলকে পরের রাউন্ডে তোলার হাসি দেখা গেছে সেইন্টফিটের মুখেই।

কোয়ার্টারে স্বাগতিক ক্যামেরুনের বিপক্ষে মাঠে নামবে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৫০তম স্থানে থাকা গাম্বিয়া। গতকাল কমোরোসকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেরা কোয়ার্টারের টিকিট নিশ্চিত করেছে ক্যামেরুন। ক্যামেরুনের হয়ে ২ গোল করেছেন অধিনায়ক ভিনসেন্ট আবুবকর ও ভিয়ারিয়ালের উইঙ্গার কার্ল-তোরো একাম্বি।



এক গোল করেই দেশের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার স্যামুয়েল ইতোর রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন আবুবকর। এ নিয়ে এই টুর্নামেন্টে ৬ গোল হয়ে গেছে তাঁর। আফকনের এক আসরে ক্যামেরুনের অন্য কোনো তারকা এর চেয়ে বেশি গোল করেননি কখনো। ২০০৬ আর ২০০৮ আফকনে ৫টি করে গোল করেছিলেন বার্সেলোনার সাবেক স্ট্রাইকার ইতো।

১৯৯৮ সালের পর আবুবকরই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি আফকনের এক আসরে পাঁচের বেশি গোল করলেন। ১৯৯৮ আফকনে ৭টি করে গোল করেছিলেন মিসরের হোসাম হাসান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বেনি ম্যাকার্থি।


যে গতিতে এগোচ্ছেন, কোয়ার্টারে গাম্বিয়ার বিপক্ষে গোল যে করে বসবেন না, তা কে বলতে পারে! ১ গোল করলে বসবেন হাসান-ম্যাকার্থিদের পাশে, আর ২ গোল করলে আফকনের এক আসরে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড গড়ে ফেলবেন সৌদি ক্লাব আল নাসরের এই স্ট্রাইকার।